empty
 
 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিটকয়েন মাইনারদের শীর্ষ গন্তব্য হয়ে উঠেছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিটকয়েন মাইনারদের শীর্ষ গন্তব্য হয়ে উঠেছে

চীন তাদের দেশে বিটকয়েন মাইনিং বন্ধ হওয়ার পর, তারা একটি নতুন হাব খুঁজছিল। স্বাভাবিকভাবেই, তারা পৃথিবীর মাইনিংয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম হাব বেছে নিয়েছে। এক নিমিষেই চীনের বদলি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিটকয়েন মাইনারদের নতুন মাইনিং মক্কা হয়ে উঠেছে। উপরন্তু, মাইনারদের আয় নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে, তারা একটি গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। সেটি হচ্ছে সেমিকন্ডাক্টরের ঘাটতি।

২০২১ সালের মে মাসের শেষের দিকে, গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার লিউ হে ক্রিপ্টো মাইনিং এবং বিটিসি ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন। লিউ সে-এর বক্তব্যের পর, সরকারী সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া ডিজিটাল মুদ্রা এবং বিটকয়েন মাইনিংয়ের তীব্র সমালোচনা করে নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।

কিছুদিন পর, চীন ক্রিপ্টো ইন্ডাস্ট্রির উপর কঠোর আইন আরোপ করে। চীনের জিনজিয়াং, কিংহাই এবং ইউনান প্রদেশে, ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সিচুয়ানে, ২০ জুন, ২০২১ পর্যন্ত মাইনারদের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় শক্তি সরবরাহকারী সংস্থাগুলোতেও ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে নিষেধ করা হয়েছিল।

সাধারণত, মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত, চীনের কিছু দূরদর্শী বিটকয়েন মাইনার সিচুয়ানের মাইনিং রিগগুলোতে স্টক আপ করত কারণ সেখানে বর্ষা মৌসুমে কমদামে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। বৃষ্টির সময়, সেখানে বিদ্যুতের খরচ বেশ কম ছিল। সেই সময়ে, স্থানীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও উৎপাদনশীলতার দিক থেকে শীর্ষে ছিল। তারা ব্যাপক আকারে এবং কম দামে জলবিদ্যুৎ শক্তির সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছিল।

ক্রিপ্টো মাইনিংয়ে চীনা কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা পরিবেশগত সমস্যার সঙ্গেও সংযুক্ত। ২০৬০ সালের মধ্যে, বেইজিং কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন করতে চায়। সুতরাং, চীনকে এমন কিছু শিল্প বন্ধ করতে হবে যা পরিবেশ দূষিত করে। তাই, সরকার ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মাইনিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক অনুমান অনুসারে, মাইনারদের ব্যাপক কার্যক্রমের কারণে আগামী তিন বছরে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ক্ষেত্রে চীন ফিলিপাইনকে ছাড়িয়ে যাবে।

মজার বিষয় হল, কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের প্রধানতম উৎসসমূহের মূল্যায়ন করার সময়, ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের দায় আলাদাভাবে অনুমান করা হয় না। স্বাভাবিকভাবেই, চীনের নির্গমন এবং কার্বন নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত বাজেটের উপর মাইনিং ফার্মেগুলোর প্রভাব মূল্যায়নের পাশাপাশি সঠিকভাবে হিসাব করা প্রায় অসম্ভব। বিশ্লেষকরা ধারনা করেন যে ক্ষতিকর রাসায়নিক নির্গমনের সমস্যাকে আংশিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য কয়লা-খনির অঞ্চলে বিটকয়েন মাইনিং সীমাবদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চীনে ক্রিপ্টো মাইনিং কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের ফলে অন্যান্য দেশে মাইনার ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা হয়েছে। ২০২১ সালের জুলাইয়ে, চীনের বিটকয়েন মাইনিং কার্যক্রম ৯০ শতাংশেরও বেশি বন্ধ হয়ে যাবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। মাইনাররা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং কাজাখস্তানকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বেছে হয়েছিল।

ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অল্টারনেটিভ ফাইন্যান্স (CAE) অনুসারে, ২০২১ সালের আগস্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনকে পিছনে ফেলে বিটকয়েন মাইনিংয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় হয়ে ওঠে। গত বছরের মে থেকে, মোট হ্যাশরেটের মার্কিন শেয়ার ১৭.৮% থেকে ৩৫.৪% বেড়েছে।

প্রতিবেদনটি লেখার সময়ে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেক দেশেই ক্রিপ্টো মাইনিং কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়ছে। কানাডায় ৪.৭% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯.৬% হয়েছে। রাশিয়ার ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের পরিমাণ ৭.২% থেকে বেড়ে ১১.২% হয়েছে। এই তালিকায় রাশিয়া তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে।

পিছনে

See also

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.