Support service
×

অধ্যায় ৯ - ফরেক্স এবং এক্সচেঞ্জ অফিস

ফরেক্স ট্রেডিং হচ্ছে মুদ্রার গতিবিধি অনুমানের উপর অর্থ উপার্জন করা। আমরা আগের অধ্যায়ে কারেন্সি মার্কেটের বর্ণনা দিয়েছি কিন্তু ফরেক্সে কাজ করার জন্য কি কি প্রারম্ভিক মূলধনের প্রয়োজন এবং কি লাভ আশা করা যায় এই ধরনের বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়েছি। এই অধ্যায়ে আমরা এটি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব।

যেহেতু এক্সচেঞ্জ অফিসে কারেন্সি এক্সচেঞ্জ হচ্ছে ফরেক্সে মুনাফা অর্জনের একটি সরলীকৃত মডেল, তাই আমরা এটার বর্ণনা দিয়েই শুরু করব। তাত্ত্বিকভাবে, আপনি এক্সচেঞ্জ অফিসে মুদ্রা ক্রয় বা বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করতে পারেন তবে তার পরিমাণ অনলাইনে ফরেক্সের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের সুযোগের তুলনায় খুবই কম।

ধরুন, আপনার কাছে $১,০০০ আছে এবং আপনি এক্সচেঞ্জ অফিসে মুদ্রার গতিবিধি অনুমানের উপর কিছু লাভ করতে চান। অনুমান করুন যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েন এক্সচেঞ্জ অফিসে ১০৪.১৫/১০৬.৬৫ কোট অফার করা হয়েছে। আমরা আশা করছি যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েন বৃদ্ধি পেতে পারে, সুতরাং আমরা সমস্ত ডলারের জন্য ইয়েন কেনার সিদ্ধান্ত নিই। পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলো থেকে আমরা জানি যে য়াস্ক প্রাইস এবং বিড প্রাইস জোড়ার বেস কারেন্সির সাথে সম্পর্কিত, এ ক্ষেত্রে সেটি মার্কিন ডলার। আমরা ডলার বিক্রি করছি, যা এক্সচেঞ্জ অফিস ক্রয় করছে। বিড প্রাইস যে কোনো কোটের শুরুতে দেখানো হয়। সুতরাং, আমরা ১০৪.১৫ * ১,০০০ = ১০৪,১৫০ JPY আয় করি।

আমরা যদি সাথে সাথেই আবার মার্কিন ডলারের জন্য আমাদের ইয়েন বিক্রি করে দেই, প্রদত্ত কোট অনুসারে, আমরা ১০৪.১৫০/১০৬.৬৫ = ৯৭৬.৫৬ USD পাব৷ তার মানে এই ট্রেডে আমাদের ক্ষতি হবে, $১,০০০ – $৯৭৬.৬৫ = $২৩.৩৫। তাহলে লাভ পেতে কি দরকার? এটা স্পষ্ট যে, প্রারম্ভিক ক্রয় মূল্যের তুলনায় USD/JPY- কোটে আমাদের আস্ক প্রাইস কম হওয়া প্রয়োজন, অর্থাৎ, বিড প্রাইস ২৫০ পিপের বেশি কমে যাওয়া উচিত। এখানে মনে রাখা ভাল যে ২৫০ পিপস হলো এই কোটের স্প্রেডের আকার, অর্থাৎ, আস্ক প্রাইস অন্তত স্প্রেডের সমপরিমাণ কম হওয়া উচিত, যাতে আমরা অন্তত আমাদের $১,০০০ ফেরত পেতে পারি। সমস্যা হল ফরেক্সের বর্তমান পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে কারেন্সি রেট ২৫০ পিপস পরিবর্তনের জন্য আমরা হয়ত যথেষ্ট দীর্ঘ (সপ্তাহ, মাস) অপেক্ষা করতে পারি। কিন্তু কল্পনা করুন যে রেট সর্বোপরি ৫০০ পিপস আমাদের অনুকূল দিকে পরিবর্তিত হয়েছে; তার মানে কোট দাঁড়াচ্ছে USD/JPY ৯৯.১৫/১০১.৬৫। জাপানি ইয়েন বিক্রি করার পরে আমরা কি পরিমাণ লাভ করব? আমরা ১০৪,১৫০/১০১.৬৫=$১০২৪.৫৯ পাব। থাওলে এই ট্রেড থেকে আমাদের নেট লাভ হবে $১০২৪.৫৯–$১,০০০=$২৪.৫৯৷ বাস্তবে, মুদ্রার হার ৫০০ পয়েন্ট পরিবর্তনের জন্য কেউই খুব দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে না। তার মানে, $২৪.৫৯ লাভের জন্য আমাদের এক মাস বা এমনকি তিন মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই, আমরা এমন মুনাফা চাই না। কিন্তু আপনি স্বস্তি পেতে পারেন এটা ভেবে যে ফরেক্সে ট্রেড করা সম্পূর্ণ আলাদা!

আগের উদাহরণ থেকে আমরা মূল্যবান তথ্য পেয়েছি যে, কোনো কোটের স্প্রেড ভলিউম যত কম হবে, ট্রেডারদের জন্য এটি তত বেশি লাভজনক। এক্সচেঞ্জ অফিসে স্প্রেড শত শত টিক চিহ্নের সমান হতে পারে, এবং সাধারণত কোট ২৪ ঘন্টার মধ্যে শুধুমাত্র একবার পরিবর্তন করা হয়। ফরেক্সে, স্প্রেডের আকার ডিলিং পার্টির উপর নির্ভর করে, যে কোটটি নির্ধারণ করে থাকে। অর্থাৎ, একজন স্বতন্ত্র বিনিয়োগকারীর জন্য, যিনি অনলাইনে ট্রেড করছেন স্প্রেড ভলিউম তার অনলাইন ব্রোকার (ব্রোকারেজ হাউস) নির্ধারণ করে থাকে। অতএব, ট্রেডিং এর জন্য সবচেয়ে অনুকূল শর্ত দেয় এমন ব্রোকার বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। মুদ্রা জোড়ার উপর নির্ভর করে, স্প্রেড ভলিউম সাধারণত ১ থেকে ১০ পিপ পর্যন্ত ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু য়াগেই যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, মুদ্রা বাজার যখন অস্থির থাকে, তখন অনলাইন ব্রোকারও সেই অনুযায়ী প্রিতিক্রিয়া দেখায়।

পূর্ববর্তী উদাহরণ থেকে আরেকটি শিক্ষা যা এক্সচেঞ্জ অফিসে মুদ্রার হার অনুমান থেকে মুনাফা অর্জনের জন্য দরকার হয়। তা হলো ঠিক নির্দিষ্ট সময়ে মুদ্রা ক্রয়ের বিপরীত ট্রেড অর্থাৎ বিক্রি করা। এছাড়াও, নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জ পয়েন্টের পাশাপাশি উদাহরণে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েন কিনতে আমাদের ডলারের পুরো যোগফল থাকতে হবে। এটি অবশ্যই স্পষ্ট, তবে ফরেক্সে সবকিছু আরও সহজ, এবং এটির সম্পর্কে আরও আলোচনা করা হবে। আরও একটি জিনিস যা আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত তা হল মুদ্রা ট্রেড এবং এক্সচেঞ্জের জন্য আমরা কেবলমাত্র আমাদের কাছে নগদে থাকা তহবিল ব্যবহার করতে পারি। অবশ্যই আমরা ইচ্ছা করলে ব্যাংক থেকে ক্রেডিট নিতে পারি, কিন্তু অনুমান নির্ভর মুদ্রার লেনদেনের জন্য কোনো ব্যাংক আপনাকে লোন/ ক্রেডিট দেবে না। তাছাড়া, আপনি এই ধরনের কল্পনা নির্ভর ট্রেডের জন্য আপনার বেশিরভাগ ক্রেডিট হারাতে এবং ঋণে পড়তে চান না, তাই না? ফরেক্সের সাথে, এসবকিছু আরও সহজ। মার্জিন ট্রেডিংয়ের নীতি (যা পরবর্তী অধ্যায়ে আলোচনা করা হবে) ব্যবহার করে, এবং তুলনামূলকভাবে অল্প তহবিল (মাত্র কয়েক হাজার মার্কিন ডলার) থাকলেই আমরা মূলধন নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, যা আমাদের নিজস্ব তহবিল থেকে শতগুণ পর্যন্ত হতে পারে। আমরা যত বেশি মূলধন ট্রেডে কাজে লাগাবো, লাভের সম্ভাবনাও তত বেশি হতে পারে। আমরা যদি জাপানি ইয়েনকে $১০০০-এ না কিনে, বরং ধরুন, $১০০,০০০ এর জন্য কিনি তাহলে আমরা $২৪.৫৯ নয় বরং পুরো $২,৪৫৯ লাভ করতে পারি। এজন্যই, ফরেক্স এডুকেশনের বাকি অংশ জানাটা দরকার, তাই না? তাহলে, আসুন এক্সচেঞ্জ অফিসের আলোচনা শেষ করি এবং ফরেক্স এক্সচেঞ্জ মার্কেটে চলে যাই।

অনলাইনে ফরেক্সে ট্রেড করার জন্য আপনাকে ব্রোকার বেছে নিতে হবে। ব্রোকার আপনার হয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খোলে, যেখানে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা করেন, যাকে সিকিউরিটি ডিপোজিট বলা হয়। সিকিউরিটি ডিপোজিটের পরিমাণ একই সময়ে একটি বিমুর্ত এবং ব্যবহারিক প্রশ্ন। এটি নির্ভর করে আপনি কতটা আক্রমনাত্মক ট্রেড করতে যাচ্ছেন, আপনার ব্যবহৃত লিভারেজ (এটি পরবর্তী অধ্যায়ে আলোচনা করা হবে), একই সময়ে কতগুলি লট খুলবেন (এটি পরে আলোচনা করা হবে) এবং ফরেক্সে আপনার ট্রেডিং অভিজ্ঞতা কেমন ইত্যাদি বিষয়গুলোর উপর। একজন নবাগত ট্রেডারের জন্য, সিকিউরিটি ডিপোজিটে $১,৫০০-২,০০০ এর কম না হওয়া বাঞ্ছনীয়। সিকিউরিটি ডিপোজিট, সাধারণত একটি বিশেষ মাল্টি-কারেন্সি অ্যাকাউন্টে রাখা হয়, যা ব্রোকার আপনার হয়ে ব্যাংকে খুলে থাকে। সাধারণত, বেশিরভাগ ব্রোকার বিদেশী কর্পোরেশন, যাদের নিবন্ধন অন্য কোনো দেশে। এই কারণে, অ্যাকাউন্টগুলো মার্কিন ডলারে খোলা হয়, তবে (একটি এক্সচেঞ্জ অফিসের উদাহরণের বিপরীতে) এর অর্থ এই নয় যে আপনি কেবল ডলারের কোট দিয়েই ট্রেড করবেন। পাউন্ডে জাপানি ইয়েন কিনতে, একজন ট্রেডারের অ্যাকাউন্টে পাউন্ড থাকার প্রয়োজন নেই। ফরেক্স মার্কেটের সুবিধা হল আসল কারেন্সি সাপ্লাই ছাড়াই কারেন্সি রেট থকে আয় করার সম্ভাবনা, অর্থাৎ এখানে কারেন্সি ভ্যালুয়েশনের তারিখ তেমন গুরুত্ব পায় না। সিকিউরিটি ডিপোজিটে মার্কিন ডলার থাকলে, আমরা অন্য কোনো মুদ্রায় লেনদেন করতে পারি। আসুন আমরা আপনাকে এক্সচেঞ্জ অফিসের উদাহরণের কথা মনে করিয়ে দিই, যেখানে আমরা মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের হার বৃদ্ধির জন্য অপেক্ষা করছিলাম, অন্য কথায়, যখন USD/JPY কোটে ইয়েনের বিপরীতে ডলার মূল্য হারাবে সেই মুহূর্তের জন্য। এবং যদি আমরা ইয়েনের বিপরীতে ডলারের হার উত্থানের জন্য অপেক্ষা করতাম তাহলে? তখন জাপানি ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলার কেনা আরও যুক্তিযুক্ত হতো, কিন্তু আমাদের যদি মাত্র $1,000 থাকে এবং কোনো ইয়েন না থাকে তাহলে আমাদের কি করা উচিত? স্বাভাবিকভাবেই, আমরা এক্সচেঞ্জ অফিসে এমন একটি ট্রেড করতে পারব না। কিন্তু, ফরেক্সে একজন ট্রেডার এই ধরনের ডিল করতে সক্ষম, যেহেতু মুদ্রার কোন প্রকৃত সমর্থন নেই (যা আমরা ইতোমধ্যে উল্লেখ করেছি), শুধুমাত্র অনুমানের উপর অর্থ অর্জিত হয়, এবং অর্জিত মুনাফা সিকিউরিটি ডিপোজিটে থাকা মুদ্রায়(অর্থাৎ মার্কিন ডলারে) রূপান্তরিত হয়।

আয়ের নীতি একই: একটি ট্রেড করতে, আমাদের প্রথমে কম দামে মুদ্রা কিনতে হবে যাতে পরবর্তীতে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা যায়। অথবা একটি উচ্চ মূল্যে মুদ্রা বিক্রি করুন, যাতে এটি পরে কম দামে কেনা যায়। দুটি প্রক্রিয়াই প্রায় একই রকম। এটি এই কারণে যে একটি মুদ্রা সর্বদা অন্য মুদ্রার বিপরীতে ক্রয় বা বিক্রি করা হয়। ফরেক্সে প্রথম উল্লিখিত অপারেশনকে ‘পজিশন ওপেন’ করা বলা হয়। দ্বিতীয়টিকে বলা হয় ‘পজিশন ক্লোজ’ করা। শুধুমাত্র পজিশন ক্লোজ করার সময়, ডিল থেকে প্রাপ্ত লাভ বা ক্ষতির হিসাব করা হয়, যা সিকিউরিটি ডিপোজিট –এ যথাক্রমে যোগ হয় অথবা সেখান থেকে কেটে নেওয়া হয়। আপনি কোনো কোটের বেস কারেন্সির জন্য বাই/সেল অর্ডার দিয়ে একটি ডিল ওপেন করতে পারেন। আপনি যদি একটি ‘বাই পজিশন’ খোলেন, তাকে লং পজিশন বলে। অন্যদিকে, আপনি যদি একটি ‘সেল পজিশন’ খোলেন তাহলে সেটিকে শর্ট পজিশন বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যখন শুনতে পান "আমি জাপানি ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলারে একটি লং পজিশন খুলেছি", এর অর্থ হল আমি জাপানি ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলারের হার বৃদ্ধির আশা করছি এবং ইতোমধ্যেই আমি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ইয়েনের জন্য ডলার কিনেছি।

ফরেক্সে অপারেশনের ন্যূনতম পরিমাণকে ‘লট’ বলা হয়। সাধারণত, এর পরিমাণ $১০০,০০০ এর সমান যা কোট মুদ্রায় দেখনো হয়। কারেন্সি মার্কেটে ট্রেড করার জন্য, আপনি পজিশন খুলবেন এবং বন্ধ করবেন, যার আকার সর্বদা লটের পুরো সংখ্যার সমান হয়ে থাকে। প্রশ্ন হতে পারে যে একজন স্বতন্ত্র বিনিয়োগকারী কিভাবে ফরেক্সে ট্রেড করবে, যদি ডিলের ন্যূনতম পরিমাণ এত বেশি হয়। আপনার সিকিউরিটি ডিপোজিটে মাত্র কয়েক হাজার ডলার থাকার পরেও, মার্জিন ট্রেডিং নীতি, যা পরবর্তী অধ্যায়ে আলোচনা করা হবে, আপনাকে $১০০,০০০ এর সমপরিমাণ তহবিল থকে ট্রেড করতে দেবে যেখানে ঝুঁকিতে থাকবে শুধুমাত্র আপনার জমাকৃত অর্থ।

কিন্তু এমনকি মার্জিন ট্রেডিং নীতিও তাদের জন্য প্রযোজ্য নয় যাদের কাছে এই পরিমাণ অর্থ নেই। তুলনামূলকভাবে অল্প পুঁজির (প্রায় $১,০০০) ট্রডারও সহজেই ফরেক্সে ট্রেড করতে পারে। এই ধরনের বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্রোকাররা $১০,০০০ এর সমান মিনি লট চালু করে। এবং কিছু ব্রোকার এমনকি মাইক্রো লট অফার করে, যা মাত্র $১,০০০ এর সমান, এবং এটি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মাত্র কয়েকশ ডলার প্রয়োজন, যদিও এই লটগুলো খুব কমই ব্যবহার করা হয়। বাস্তবে, একজন নবাগত ট্রেডার হওয়ার কারনে, আপনি সম্ভবত মিনি-লটে ট্রেড করতে চাইবেন।

এটি লক্ষ্য রাখা উচিত যে আপনার সিকিউরিটি ডিপোজিট যত বেশি হবে, ফরেক্সে একই সাথে আপনি তত বেশি লট খুলতে পারেন। ট্রেড করার সময় এটি বিবেচনা করা উচিত নিজস্ব কৌশলের উপর নির্ভর করে, যে প্রতিটি ট্রেডারের একই সাথে অনেকগুলো পজিশন খোলার প্রয়োজন হতে পারে। অতএব, সবসময় আপনার সিকিউরিটি ডিপোজিটের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

ফরেক্সে একটি ট্রেড থেকে আনুমানিক কত লাভ হতে পারে? ধরা যাক, আমরা মিনি লট নিয়ে ডিল করছি এবং আমাদের সিকিউরিটি ডিপোজিটের পরিমাণ $১,০০০। আমরা USD/JPY ১০৪.৭৫/৮০-এর বর্তমান কোটে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলারের হার বৃদ্ধির পূর্বাভাস করছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, স্প্রেড ব্যাবধান ৫ পয়েন্ট, যা ফরেক্সের ক্ষেত্রে সাধারণ এবং এক্সচেঞ্জ অফিসের উদাহরণের তুলনায় অনেক কম। এবার ধরা যাক আমরা এক ডলারের জন্য ১০৪.৮০ JPY-এর কোটে একটি মিনি লট দিয়ে USD/JPY-তে একটি লং পজিশন খুলছি। আমাদের মুদ্রা-হার সম্পর্কিত পূর্বাভাস সঠিক হয়েছে, এবং পজিশন বন্ধের মুহূর্তে হার হলো USD/JPY ১০৫.১০/১৫। সুতরাং, আমরা ১০৫.১০-১০৪.৮০=৩০ টিক্সের সমান লাভজনক হার মুভমেন্ট "ক্যাচ" করতে পেরেছি। লক্ষ্যনীয় যে টিকগুলি কোট মুদ্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমন জাপানি ইয়েন। মার্কিন ডলারে আমাদের লাভের পরিমাণ হিসাব করার জন্য, ৩০ টিক্সকে ডলারের হিসাবে রূপান্তর করতে হবে এবং মিনি লটের আকার ১০,০০০ দ্বারা গুণ করতে হবে৷ পিপকে ডলারের সমতুল্যে রূপান্তর করতে আমরা ০.৩০ কে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলার বিক্রির হার দিয়ে ভাগ করি, এবং সেটি হল ০.৩০/ ১০৫.১৫=০.০০২৯৷ প্রাপ্ত মানটি ডলারের সমতুল্য 29 পয়েন্টের সাথে মিলে যায় এবং এটিকে 10,000 দ্বারা গুণ করলে আমরা আমাদের মোট লাভ পেতে পারি যা $২৯৷ আমাদের উদাহরণে রেট মুভমেন্ট ছিল মাত্র 30 টিক্স, এবং এই হারের $১,০০০ দিয়ে ট্রেড করে আমরা $২৯ লাভ করতে পেরেছি। মূলত, এই ধরনের লাভ ফরেক্সে কয়েক ঘন্টা বা এমনকি মিনিটের মধ্যে করা যায়।

শেষ করার আগে, আসুন অধ্যায়ের শুরুতে বর্ণিত এক্সচেঞ্জ অফিসে অপারেশন থেকে প্রাপ্ত লাভ এবং শেষে আলোচনা করা ফরেক্সের অপারেশনের তুলনা করি। এটা স্পষ্ট যে ফরেক্স যে সুযোগগুলো প্রদান করে তা এক্সচেঞ্জ অফিসের সাথে তুলনাযোগ্য নয়। যে মুনাফা তাত্ত্বিকভাবে এক্সচেঞ্জ অফিসে এক মাসের মধ্যে অর্জন করা যায় তা ফরেক্সে এক ঘন্টার মধ্যে অর্জন করা যায়!


আপনার মতামত প্রদান করুন

ধন্যবাদ! আপনি কি আরও কিছু যোগ করতে চান?

প্রাপ্ত উত্তর আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন (ঐচ্ছিক)

আপনার মতামত আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ.
আমাদের অনলাইন সমীক্ষা সম্পূর্ণ করার সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ৷

smile""